Home আওয়ামীলীগ কর্তৃক গুম আ’লীগের ১৫ বছরে গুম ১২০৯ জন

আ’লীগের ১৫ বছরে গুম ১২০৯ জন

দেশে গুমের রাজনীতির সূত্রপাত আওয়ামী লীগের হাতে

গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনকালে দেশে ১২০৯ জন গুম হয়েছেন বলে দাবি করেছে সুশীল সমাজ, বিজ্ঞ আইনজীবি, রাজনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং অপরাধতত্ববিদরা ।

দেশে গুমের রাজনীতির সূত্রপাত আওয়ামী লীগের হাতে অ্যান্থনির লেখা ‘বাংলাদেশ এ লিগেসি অব ব্লাড, ইউনাইটেড কিংডম’ বইয়ের উদ্ধৃতি হতে পাওয়া যায় । ‘বাংলাদেশে গুমের ঘটনার সূত্রপাত ঘটে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে। ওই সময় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) অসংখ্য কর্মী-সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের অসংখ্য সদস্যকে গুমের শিকার হতে হয় জাতীয় রক্ষী বাহিনীর হাতে, যা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের এলিট প্যারামিলিটারি ফোর্স ছিল।’

১৫ বছরের আওয়ামীলীগ এর দানবীর দু:শাসনে,২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ গঠন করার পর থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে গুম হওয়া মানুষের সংখ্যা ১২০৯ জন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুমের সংখ্যা ৭৮১ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন-জনপ্রতিনিধি বিএনপির সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হিরু, কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, লাকসাম বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির পারভেজ, সুমন, ছাত্রনেতা জাকির, নিজামুদ্দিন মুন্না, তারিকুল ইসলাম ঝন্টু, আদনান চৌধুরী, মো. সোহেল, খালিদ হোসেন সোহেল, সম্রাট মোল্লা, মাহবুব হাসান সুজনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নিরুদ্দেশ থাকার কথা উল্লেখ করে। সালাহউদ্দিনকে দুই মাস গুম করে রাখার পর অন্য দেশে ফেলে দিয়ে এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা এখনও পথ চেয়ে বসে আছেন। ছোট্ট শিশুরা অপেক্ষা করছে বাবা ফিরে আসবে সেই আশায়, সন্তানের দুশ্চিন্তায় অনেকের বাবা-মা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। নিখোঁজ সুমনের মা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে অন্ধ হয়ে গেছেন। গুমের শিকার প্রতিটি পরিবারের কান্না-আহাজারি আর প্রতীক্ষার দিবানিশি শেষ হচ্ছে না।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার একটি প্রতিবেদনের কথা ২০১৯, ২২ জুন একটি পত্রিকার সূত্র ধরে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয় যে, গত কয়েক বছরে যেসব মানুষ নিখোঁজ হয়েছে তার বেশিরভাগই বিরোধী দল বাংলাদেশ বিএনপি, জামায়াত ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য। এদের মধ্যে আরও আছেন মানবাধিকারকর্মী,যারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনায় সোচ্চার ছিলেন।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৯ সালের শুরু থেকে ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫০৭টি জোরপূর্বক গুম প্রামাণ্য দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেছে নাগরিক সমাজবিষয়ক গ্রুপগুলো। গুম হয়ে যাওয়া মানুষের মধ্যে ২৮৬ জন জীবিত ফিরেছেন ঘরে। ৬২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে মৃত অবস্থায়। বাকি ১৫৯ জন মানুষ আজও নিখোঁজ। গতকাল (বৃহস্পতিবার) আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ (জুলাই) পর্যন্ত ৩৪৪ জন গুমের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ৪৪ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে, ৬০ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ৩৫ জন ফেরত এসেছে। এসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবার, স্বজন বা প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন যে, বিশেষ বাহিনী-র‌্যাব, ডিবি পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিচয়ে সাদা পোশাকে ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের তুলে নেয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ গুমের জন্য সন্দেহ করা হয়-পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র‌্যাবকে।

বাংলাদেশে বর্তমানে গুমের ধারাবাহিকতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলেন, গুমের শুরু হয়েছিল ১৯৭২ থেকে ৭৫ সালে। গণতন্ত্রের অকাল প্রয়াণ ঘটানোর জন্যই গুমের মতো অমানবিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা। গণতন্ত্র হত্যায় রাষ্ট্রের এই নিষ্ঠুর চেহারা দেখে জনগণ শোক জানাতেও ভয় পাচ্ছে। গুম একটি ভয়ঙ্কর মানবতাবিরোধী অপরাধ। গুমকে ব্যবহার করা হচ্ছে সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য নিয়ে, বিরোধী দল ও মতকে নির্মূল করে রাষ্ট্র-সমাজে একমাত্রিকতা, কর্তৃত্ববাদী ও একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করাই এর মূল লক্ষ্য। মানুষের কঙ্কাল দিয়েই নিষ্ঠুর একদলীয় শাসন কায়েম হয়। এ কারণেই ভিন্নমত, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসনসহ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশকে সর্বশক্তি দিয়ে রুদ্ধ করা হয়েছে। চিরদিনের জন্য নিখোঁজ হওয়ার ভয়ে মানুষ বিদ্যমান দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যাতে প্রতিবাদী হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য বর্তমান সরকার গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। গুম আদিম বন্য ব্যবস্থা। এই নিষ্ঠুর কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা হিংস্র প্রাণীর সঙ্গেই তুলনীয়।

জোরপূর্বক বা যেকোনো ধরনের গুম বন্ধ করতে সরকারের প্রতি জাতিসংঘ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংস্থা আহ্বান জানিয়েছে। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়-আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে প্রথম সারির মন্ত্রীরা পর্যন্ত সেই আহ্বানকে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা সবসময়ই গুমের তথ্যপ্রমাণসমূহকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা বলে এড়িয়ে চলে।

মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন এশিয়ান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টারের(এএলআরসি) একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অন্তত ৪৩৫ জনকে গুম করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। লোকজনকে তুলে নেয়া ও গুমের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ডিবি, গোয়েন্দা বিভাগ, পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসিইউ) ও র‌্যাবের নাম উঠে এসেছে। একই প্রতিবেদনে নাগরিকদের তুলে নেয়া ও গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো।

গত বছরের ৩১ আগস্ট ২০১৮ দৈনিক যুগান্তরের একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ,নিখোঁজ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ/মাস পর এক-চতুর্থাংশ মানুষকে পাওয়া যাচ্ছে বন্দি অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে নানা রকম বানোয়াট ফৌজদারি অভিযোগ। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে যারা ঘরে ফিরছেন, তারা ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না।

বিভিন্ন দেশের গুমের ইতিহাস হতে আমরা পাই , মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে করুণ কাহিনী হচ্ছে গুমের কাহিনী। কোনো অপরাধই চিরদিনই শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারে না, কোনো না কোনো দিন এর বিচার হয়। দায়ী ব্যক্তিদের বিচার না হলে সেই রাষ্ট্র ক্রমে দানব থেকে মহাদানবে পরিণত হয়ে একসময় সার্বিক ধ্বংস অনিবার্য করে তুলে ক্ষতি করে দেশ ও জনগোষ্ঠীর। যেমন-হিসেন হেব্রে প্রায় ৮ বছর আফ্রিকার চাদের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ৮ বছরে হত্যা, নির্যাতন, গুমসহ অসংখ্য অপকর্ম করেছিল, তারও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। আর্জেন্টিনার ক্ষমতাবাদ জেনারেল রেনাল বিগনান যিনি অনেক রক্ত ঝরিয়েছেন তাকেও বিচারের মুখোমুখি হয়ে শাস্তি পেতে হয়েছে। গুয়েতেমালার হত্যা-গুমের হোতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিচারের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

বাংলাদেশে গুমের ইতিহাস সৃষ্টি করেছে আওয়ামী সরকার এমন দাবি করেন রাজনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধতত্ববিজ্ঞানীরা। রাষ্ট্রীয় মদদ ছাড়া কাউকে গুম করা অসম্ভব। গুম ও ক্রসফায়ারের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনাগুলো সমাজে, সংবাদমাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও তাতে সরকারের টনক নড়ে না। সুতরাং এতেই বোঝা যায়, এতসব গুমের হোতা কারা। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের মদদদানকারীরাও বিচারের আওতার বাইরে থাকবে না। প্রতিটি গুমের তদন্ত ও বিচার একদিন হবেই।গুম,খুনের ভিলেন ও নাটের গুরু হচ্ছে লেডি হিটলার,নরপিচাশ, মাফিয়া নেত্রী,ভোটচোর শ্রীমতি শেখ হাসিনা। একদিন এই মানবতাবিরোধী জগন্য কাজের হিসেব দিতেই হবে তাকে। জাতীয় কবির ভাষায়,(কুলি মজুর :কাজী নজরুল ইসলাম )
“আসিতেছে শুভ দিন
দিনে দিনে বাড়িয়াছে দেনা
শুদিতে হবে একদিন”
সে দিনের অপেক্ষায় বাঙালি জাতি!!!🇧🇩

3 COMMENTS

  1. বি এন পির নেতা ওয়াহিদ ইবনে মকসুদ কয়েছ,আমরা সুনামগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ তোমাকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, আওয়ামীলীগ সরকার তথা দেশমাতা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিদেশে বসে লেখালেখি ও মিটিং সভা বন্ধ করো;নতুবা তোমার জায়গা সুনামগঞ্জ তথা বাংলাদেশে হবে না,আমরা তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের হাত থেকে তোমার রেহাই নাই। তোমাকে বাংলাদেশের যেখানে পাওয়া যাবে কাতল করা হবে। তোমার লাশ টুকরা টুকরা করা হবে এবং কুকুর কে খাওয়ানো হবে।জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

  2. তুই একটা বি এন পির রাজাকার।তুই অনলাইনে দেশনেত্রী শেখ হাসিনার বিরুধিতা করোস।তোর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।তোর রক্ষা নাই, আমরা তোর শেষ দেখে ছাড়বো।অথএব,
    সময় থাকতে সাদু সাবধান।

  3. অবৈধ আওয়ামীলীগ সরকার নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য বিরুধী দলীয় নেতা কর্মীদের বিশেষ করে বি এন পি ও জামায়াত ইসলামীর নেতা কর্মীদের গুম, খুন,হত্যা,জেল, জুলুম, নির্যাতন করে। গুমকৃত অনেক বি এন পি নেতা ও জামায়াত নেতা কর্মীদের হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। তারা জীবিত না মৃত। একমাত্র লেডি হিটলার শেখ হাসিনা জানে। রাক্ষস ও দানব শেখ হাসিনার হাত হতে বাংলাদেশ কে রক্ষা করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here